কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে আনিসুল হকের উপন্যাস ‘মা’ ডাউনলোড করুন ।

আজাদের ইঞ্জিনিয়ার বাবা টাটা কোম্পানিতে চাকুরি করতেন । আজাদরা ছিল অবস্থাপন্ন। ঢাকার ইস্কাটনে ছিল তাদের বিশাল বাড়ী । সেই বাড়ী ছিল আগা পাস্তলা মোজাইক করা ,ছিল ঝক ঝকে সব দামি ফিটিংস। আজাদের মায়ের ড্রেসিং রুমটাই ছিল একটা বড় বেড রুমের সমান।

আজাদের বাবার নাম ইউনুস চৌধুরি। তিনি ছিলেন ঢাকা শহরের সবচেয়ে ধনীদের  একজন। কেঁউ কেউ বলেন, ধনীদের একজন নয়, সবচেয়ে ধনী।

আজাদ ছিল তার মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা পরে দ্বিতীয় বিয়ে করায়, আজাদের মা শিশু আজাদকে নিয়ে স্বামীর ঘর, অর্থ, বিত্ত সব কিছু ত্যাগ করে চলে আসেন।



আজাদের মা অনেক কষ্ট স্বীকার করে বস্তির মত ভাড়া বাড়িতে থেকে আজাদকে লেখা পড়া করান। আজাদ করাচী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করে।

দেশে শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ।আজাদের বন্ধুরা ঢাকা আরবান এরিয়া গেরিলা বাহিনীতে যোগ দেয়। বন্ধুরা যুদ্ধে । আজাদ কি ঘরে বসে থাকতে পারে ?আজাদ তার মাকে জানায় সে যুদ্ধে যেতে চায়। মা আজাদকে অনুমতি দেন । ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট রাতে পাকিস্থানি সেনারা ঢাকার কয়েকটি মুক্তিযোদ্ধা  নিবাসে একযোগে হামলা চালায়। আরো অনেকের সাথে ধরা পরে আজাদ, বদি, আলতাফ মাহমুদ, জুয়েল ও জাহানারা ইমামের ছেলে রুমি।

পাকিস্থানিরা কথা বের করতে প্রচন্ড অত্যাচার চালায় বন্দীদের উপর। কিন্তু কথা বের করতে পারে না ।

আজাদের মাকে বলা হয়, ছেলে যদি সবার নাম , অবস্থান বলে দেয় তাহলে ছেলেকে ছেড়ে দেয়া হবে।

আজাদের মা ছেলের সাথে দেখা করেন। এবং ছেলেকে বলেন, শক্ত হয়ে থেক কারো নাম বলে দিও না। আজাদ বলে মা, দুই দিন ধরে ভাত খাই না,আমার জন্য ভাত নিয়ে এসো। মা পরের দিন ভাত নিয়ে আসেন। কিন্তু ছেলের আর দেখা মেলে না। আর কোন দিন ছেলে ফিরে আসেনি।

যুদ্ধের ১৪ বছর পর ১৯৮৫ সালের ৩০ আগস্ট মা মারা যান নিঃস্ব ও রিক্ত বেশে। এই ১৪ বছর মা কখনো ভাত মুখে তোলেননি, কখনো বিছানায় ঘুমাননি।

 

আনিসুল হক মুক্তিযোদ্ধাদের  কাছ থেকে এই কাহিনির সন্ধান পেয়ে বহু জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে বহু দলিল দস্তাবেজ ঘেটে রচনা করেন এক অসম সাহসিকা মায়ের অবিশ্বাস্য কাহিনী “মা”

এই রকম লাখো মায়ের বুকের ধন দেশের জন্য উৎসর্গ করার বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক।

 ডাউনলোড করার লিংকঃ  


কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ। Conversion Conversion Emoticon Emoticon