এন্ডয়েড এ কাস্টম রম ব্যবহারের আপনি কি কি সুবিধা এবং অসুবিধা পাবেন।

অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স হবার কারণে ডেভেলপারগণ অ্যান্ড্রয়েডের অপারেটিং সিস্টেমের কোড সংগ্রহ করতে পারেন এবং এরপর বিভিন্ন রকম সুবিধা যোগ করতে পারেন অথবা সেই কোডগুলোকে নিজেদের মত করে পরিবর্তন করে তাদের নিজেদের একটি
অপারেটং সিস্টেমের ইমেজ তৈরী করতে পারেন যা ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন সমূহে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অনেক অ্যান্ড্রয়েড গিক রয়েছেন যারা এই ডেভেলপারদের তৈরী বা কাস্টোমাইজ করা রম (কাস্টম রম) গুলো ব্যবহার করে থাকেন এবং তারা সবসময়ই গুগলের অফিশিয়াল বা স্টক রমের চাইতে
কাস্টম রম কেই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন বেশি। কিন্তু কেন? নিশ্চয়ই কিছু না কিছু বারতি সুবিধার কারনেই তারা কাস্টম রম ব্যবহার করে থাকেন। চলুন, আজকের ব্লগে কাস্টম রম এর কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা আলোচনা করা যাক।

কাস্টম রম ব্যবহারের সুবিধা সমূহঃ

সর্বশেষ অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের আপডেট পাওয়াঃ
বেশির ভাগ ব্যবহারকারী এই কারণটির জন্যেই ‘ কাস্টম রম ‘ ব্যবহার করে থাকেন। অনেক স্মার্টফোন
ম্যানুফ্যাকচারার প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা তাদের ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট প্রকাশ করেনা। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান তাদেরই একটি
পুরাতন মডেলের স্মার্টফোনের আপডেট প্রকাশ করা বন্ধ করে দেয় নতুন মডেল গুলো বাজারে জনপ্রিয় করার জন্য। আবার অনেক ক্ষেত্রে যে সকল ডিভাইস
নতুন আপডেট গুলো পেয়ে থাকে সেগুলোর জন্যেও ব্যবহারকারীকে অপেক্ষা করতে হয় মাসের পর মাস। আপনার যদি একটি পুরাতন অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন থেকে থাকে যার জন্য সেই স্মার্টফোনটির ম্যানুফাকচারার প্রতিষ্ঠানটি আপডেট প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে কিন্তু আপনি কিছুটা হলেও অ্যান্ড্রয়েডের
আপডেটেড সংস্করণ ব্যবহার করতে চান এক্ষেত্রে আপনাকে কাস্টম রম সাহায্য করতে পারে। কাস্টম রম বিবেচনায় CyanogenMod খুবই জনপ্রিয় কেননা, এই
কাস্টম রম টিতে রয়েছে তাদের নিজস্ব টুইকস এবং তাদের সিস্টেম মূলত গুগলের স্টক ভার্শন থেকে বলতে গেলে আলাদা নয়; ইন্টারফেস প্রায় পুরোটাই সিমিলার।

আপনি CyanogenMod সম্পর্কে না জেনে থাকলে এই লিংক থেকে ঘুরে আসতে পারেন, এখানে CyanogenMod এর কিছু চমৎকার ফিচার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যাই হোক, এভাবেই আপনাকে
কাস্টম রম সর্বশেষ অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ পেতে সাহায্য করতে পারে। তবে আপনি যদি এমন কোন ডিভাইস
ব্যবহার করে থাকেন যা নিয়মিত আপডেট পেয়ে আসছে, যেমন- গুগলের নেক্সাস ডিভাইস সমূহ, তবে এক্ষেত্রে কাস্টম রম এর উপর ভরসা করার কোন প্রয়োজনই আপনার হবেনা।

প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের লুক পরিবর্তন করতেঃ প্রায় সব স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানই তাদের স্মার্টফোন বাজারজাত করার সময় গুগলের ক্লিন লুক মোডিফাই করে তাদের নিজস্ব লুক বা ইন্টারফেস সংযুক্ত করে থাকা যা অনেকের কাছেই গোলমেলে।
অনেকেই এই মোডিফাইড লুক অপছন্দ করে থাকলেও তাদের মধযে যারা স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৪ বা এইচটিসি ওয়ান এর মত ফ্ল্যাগশীপ ডিভাইস ব্যবহার করতে চান তারা এই প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠনের মোডিফাইড লুকে আবদ্ধ হয়ে যান। আপনি সহজেই ইচ্ছে করলে রুট না করেও সিম্পলি আপনার ব্রাউজারে নরমাল যেকোন ব্রাউজার ইন্সটল করেও সেই লুক কিছুটা পরিবর্তন করতে পারেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে সিস্টেম পরিবর্তিত হবেনা এবং আপনি পরিপুর্ন ভাবে গুগলের স্টক লুকটা উপভোগ করতে পারবেন না। আপনি যদি সম্পূর্ন ভাবে গুগলের স্টক ইন্টারফেস ব্যবহার করতে চান তবে আপনাকে কাস্টম রম ই ব্যবহার করতে হবে।

তবে আপনি যদি আপনার ডিভাইসের লুক নিয়ে সন্তুষ্ট থেকে থাকেন অথবা নেক্সাস ডিভাইস ব্যবহার করে থাকেন যগুলোতে প্রথম থেকেই গুগলের স্টক ইন্টারফেস ব্যবহার করা হয়ে থাকে তবে এই পয়েন্টটিও আপনার কাজে আসছে না।

বোল্টওয়্যার থেকে মুক্তিঃ আপনি যখন নতুন একটি স্মার্টফোন দোকান থেকে কিনে এনে ফার্স্ট বুট করেন তখন আপনি এর মেন্যুতে নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন ছাড়াও নানা রকম অপ্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন দেখে থাকেন, এগুলোকে বলা হয় বোল্টওয়্যার।

এই বোল্টওয়্যার গুলোর অনেক গুলোই আছে যা আপনার ডিভাইসের ইন্টারনাল মেমরীতে ইন্সটল করা থাকে এবং যা নরমালি আন-ইন্সটল করা সম্ভব হয় না।
অপ্রয়োজনীয় এই বোল্টওয়্যারগুলো আপনি ব্যবহার না করে থাকলেও এগুলো কিন্তু অযথাই আপনার স্মার্টফোনের স্টোরেজ ডিস্কের জায়গা দখল করে
রাখে। আপনি যদি একেবারেই বোল্টওয়্যার ছাড়া ঝামেলা মুক্ত একটি সিস্টেম ব্যবহার করতে চান তবে কাস্টম রম এক্ষেত্রে আদর্শ। কেননা, কাস্টম রম তৈরী করার সময় এটা মাথায় রেখেই তৈরী করা হয় যেন এটি সব দিক দিয়েই এফিসিয়েন্ট হয়ে থাকে; এজন্য কাস্টম রম এ অপ্রয়োজনীয় বোল্টওয়্যারের দেখা মেলেনা।

আপনি বলতে পারেন, এর ঝামেলা না করে অ্যাপগুলো ডিস্যাবল করে রাখলেইতো হয়। আপনি ইচ্ছে করলে ডিস্যাবল করে দেখতে পারেন, তবে তাতে শুধু সেই অ্যাপলিকেশনটি নিষ্ক্রিয়ই থাকছে, আপনার ডিভাইসের ডিস্ক ফ্রি হচ্ছে না।

নানা রকম সুবিধা এবং সিস্টেম টুইকস সংযোজন করাঃ

কাস্টম রম আপনাকে এমন কিছু সুবিধা এবং সিস্টেম টুইকস প্রদান করবে যা আপনি স্টক রমে খুঁজে পাবেন না। যেমন ধরুন,

* আপনি নিজের ইচ্ছামত বিভিন্ন রকমের স্ক্রিন ইন্সটল করে আপনার পুরো অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমের লুক পরিবর্তনের এক্সপেরিমেন্ট চালাতে পারবেন।

* কাস্টম রম এ ‘কুইক সেটিংস মেন্যু’ অফার করা হয় যার মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার সবচাইতে প্রয়োজনীয় অ্যাপ গুলো সেখানে পিন-আপ করে রাখতে পারবেন।

* আপনি বিভিন্ন অ্যাপলিকেশনের সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যে সেগুলো ট্যাবলেট মোডেও রান করতে পারবেন।

* আপনি খুব সহজেই আপনার ডিভাইসটি ওভারক্লক করে এর গতি এবং ওভারঅল পার্ফমেন্সে পরিবর্তন আনতে পারবেন অথবা আন্ডারক্লক করে এর গতি কমিয়ে আপনার ডিভাইসের ব্যাটারী ব্যাক-আপ বৃদ্ধি করতে পারবেন।

* বটম নেভ্যিগেশন বার হাইড করতে পারবেন যা আপনাকে আরও সুন্দর একটি পরিপূর্ন স্ক্রিনের স্বাদ প্রদান করবে।

* শুধু মাত্র একটি সিস্টেম টোগল ব্যবহার করে রুট এক্সেস নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন। এছাড়াও কাস্টম রম এ রয়েছে অগণিত হাজারো ফিচার যা বলে শেষ করা
সম্ভব নয়। যেগুলো উপরে লিখলাম এগুলো বেসিক কিছু সুবিধা মাত্র। এছাড়াও, অ্যাডভান্স ব্যবহারকারী এবং গিকদের জন্যে কাস্টম রম এ রয়েছে চমৎকার সব অবাক করা সিস্টেম টুকইস।

অ্যাপ পারমিশন নিয়ন্ত্রণঃ বেশির ভাগ কাস্টম রম এই রয়েছে বিভিন্ন অ্যাপলিকেশন কতৃক চাওয়া পারমিশন
নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধা। এর ফলে আপনি ফেসবুক অ্যাপলিকেশনটির জন্য আপনাকে জিপিএস এর মাধ্যমে ট্র্যাক করার পারমিশন বন্ধ করে দিতে পারেন,
অথবা যেকোন গেম খেলার সময় আপনার আইডেন্টিটি এক্সেস করার পারমিশনও
ডিনাই করে দিতে পারেন।

কাস্টম রম ব্যবহারের অসুবিধা সমূহঃ
কাস্টম রম সমূহ ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন
রকমের সুবিধা দিয়ে থাকলেও এই রম গুলো শতভাগ পারফেক্ট নাও হতে পারে এবং অনেক সময় ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন রকমের ডাউনসাইডও ফেস করতে হতে পারে। যেমন,

১। ব্যাটারী লাইফের সমস্যাঃ আপনার ব্যবহারিত কাস্টম রম টি যদি আপনার ডিভাইসের জন্য অপটিমাইজড না হয়ে থাকে তবে এটি আপনার ডিভাইসের ব্যাটারী অনেক দ্রুত ড্রেইন করতে সক্ষম যা হয়তোবা আপনার অফিশিয়াল স্টক রমটির চাইতেও বেশি হতে পারে।

২। হার্ডওয়্যার ইস্যুঃ একটি কাস্টম রম যদি প্রোপার্লি আপনার ডিভাইসের প্রতিটি হার্ডওয়্যার সমর্থন না করে তবে আপনি বিভিন্ন রকম হার্ডওয়্যার ইস্যুর সম্মুখীন হতে পারেন। এর মধ্যে নানা রকম বাদ, নান-ফাংশনিক হার্ডওয়্যার খুবই কমন সমস্যা। যেমন ধরুন, আপনার
ডিভাইসে ক্যামেরা আগের মত কোয়ালিটির ছবি ধারন করতে সক্ষম নাও হতে পারে।

৩। অন্যান্য বাগ সমূহঃ কাস্টম রম গুলো গুগল বা আপনার ডিভাইসের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান দ্বারা যেহেতু পরীক্ষিত নয় তাই এতে বিভিন্ন রকমের বাগ থাকা খুবই স্বাভাবিক। তাই, আপনি কাস্টম রম ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন রকমের
ইন্সট্যাবিলিটি বা হঠাত করেই অ্যাপ-ফোর্স ক্লোজিং এর সম্মুখীন হতে পারেন।

আজ আর নয়।

টিউন ক্রেডিট শরাফত আহমেদ অনন্ত


কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ। Conversion Conversion Emoticon Emoticon