আপনি কি জানেন সিম্বোলিক লিংক বা সিমলিংক কী? কম্পিউটার ব্যবহারে একজন সত্যিকারের এক্সপার্ট হতে চাইলে আপনাকে এটা জানতেই হবে!! [আপডেটেড]

এডভান্স কম্পিউটার অপারেটিং এর সিম্বোলিক লিংক কিংবা সিমলিংক শীর্ষক টিউনটি শুরু করছি।

কম্পিউটারে সাবলিল এবং সুন্দর ভাবে কাজ করার পূর্ব শর্ত হলো কম্পিউটারে সবকিছু সুন্দর ভাবে অর্গানাইজড থাকা। কাজের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হয় যেন মার্ফির সূত্রের মাঝে আটকা না পড়তে হয়। জনাব মার্ফির মতে যখন যা কিছু প্রয়োজন তখন সেটাকে পাওয়া যাবে না। প্রয়োজন শেষ হলেই দেখা যাবে সেটা চোখের সামনে পড়ে আছে। কম্পিউটারে কাজের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টাতে মাঝে মাঝেই আমাদের ভুগতে হয়। আমরা জানি দুটি বিন্দুর মাঝে সংযোগকারী সরল রেখায় হলো তাদের মধ্যকার সর্বনিম্ন দুরত্ব। এই রেখা ছাড়া আপনি যেদিকেই যাবেন আপনার সময় এবং শ্রম দুটোরই অপচয় হবে। ঠিক তেমনি কম্পিউটারে কাজের জন্য রয়েছে কিছু সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড। কিছু আলাদা ফিচার যেগুলো ব্যবহার করলে আপনি খুব সহজেই সঠিক কাজটি সঠিকভাবে করতে পারবেন। এর বায়রে গেলে আপনার সময় এবং শ্রমের অপচয় সুনিশ্চিত। আজ আমরা এরকই একটি বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো। আজকের আলোচনার বিষয় সিম্বোলিক লিংক বা সিমলিংক। আমার বিশ্বাস অধিকাংশ কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছেই আজকের বিষয়টা সম্পূর্ণ নতুন মনে হবে। কারন এর আগে টেকটিউনসে কেউ এ বিষয়ে লিখেনি। যাহোক, চলুন মূল আলোচনায় ফিরে আসা যাক।

সিম্বোলিক লিংক বা সিমলিংক কী?

সিম্বোলিক লিংক (Symbolic Link) হলো একটি এডভান্স শর্টকাট মেথোড যাকে আমরা সংক্ষেপে সিমলিংক (Symlink) বলবো। সাধারনত আমরা কোন ফাইল বা ফোল্ডার সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য শর্টকাট ব্যবহার করে থাকি। সেখানে ক্লিক করা মাত্র মেইন ফাইল বা ফোল্ডার ওপেন হয়। কিন্তু সিম্বোলিক লিংক হলো এমন একটা প্রসেস যেখানে কম্পিউটারের যেকোন স্থানের ফাইল বা ফোল্ডারকে আপনি অন্য কোন জায়গায় আসল ফাইল বা ফোল্ডারের মতো ব্যবহার করতে পারবেন। জানিনা বুঝতে পারছেন কিনা, তবে টিউনের শেষ পর্যন্ত পড়লে সব কিছু আপনার জন্য পরিষ্কার হয়ে যাবে।



সিম্বোলিক লিংকের অনেকগুলো প্রকারভেদ থাকলেও তাদের মধ্যে দুই ধরনের সিম্বোলিক লিংক অন্যতম। একটা হলো সফট সিম্বোলিক লিংক এবং অন্যটা হলো হার্ড সিম্বোলিক লিংক।

সফট সিম্বোলিক লিংক হলো স্ট্যান্ডার্ড শর্টকাটের মতোই। মানে আপনি যখন কোন ফোল্ডারের সিম্বোলিক লিংকে ক্লিক করবেন তখন সেটা আপনাকে তার আসল লোকেশনে নিয়ে যাবে।হার্ড সিম্বোলিক লিংক হলো সম্পূর্ণ আলাদা। হার্ডলিংকে ক্লিক করলে এটা আসল ফাইলের মতোই কাজ করবে। মানে হলো হার্ড লিংক দেখে মনে হবে যে সত্যিকার অর্থেই সেই ফাইলটা সেখানেই আছে।

আজকের টিউনে আরও অগ্রসর হওয়ার আগে চলুন জেনে নেই কেন আমাদের সিম্বোলিক লিংক ব্যবহার করতে হবে। অথবা আজকের টিউনের মুল উদ্দেশ্য কী?

কেন আমরা সিম্বোলিক লিংক ব্যবহার করবো?

সিম্বোলিক লিংক ব্যবহার করার জন্য অনেক কারন আপনি আজকের পর থেকে খুঁজে পাবেন। আমাদের সামনে অনেক বিষয় অজানা থাকার কারনে আমরা সেগুলোর অভাব বুঝিনা। আজ যখন বিষয়টা সম্পর্কে পরিপূর্ণ তথ্য পেয়ে যাবেন তখন এটার অনেক ব্যবহার নিজে নিজেই বের করে ফেলতে পারবেন। চলুন নিচের উদাহরণগুলো থেকে একটু ধারনা নেওয়ার চেষ্টা করি, কোন কোন পরিস্থিতিতে সিম্বোলিক লিংক ব্যবহার করতে হবে।



কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ কোন ড্রাইভে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে

মনে করুন আপনার কম্পিউটারের C ড্রাইভের সাইজ খুবই কম। কিন্তু আপনি ইন্টারনেট থেকে অনেক বেশি ডাটা ডাউনলোড করেন। একারনে ডাটা ডাউনলোড হওয়ামাত্র সেগুলো অন্য ড্রাইভে স্থানান্তর করে দিতে হয়। তাছাড়া টরেন্ট থেকে ডাউনলোড করা মুভি বা বড় কিছু সফটওয়্যার ডাউনলোড করার পরে সেগুলোর জায়গা C ড্রাইভে হয় না। এক্ষেত্রে সিম্বোলিক লিংক আপনার সব সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে।পর্যাপ্ত জায়গা আছে এমন কোন ড্রাইভে ডাউনলোডের জন্য প্রয়োজনীয় খালি ফোল্ডার তৈরী করুন। তারপর সেটার হার্ড সিম্বোলিক লিংক তৈরী করে C ড্রাইভের আসল ডাউনলোড ফোল্ডারের জায়গায় ড্রপ করে দিন। তাহলে ফাইল ডাউনলোড হওয়ার পরে সেগুলো আপাত দৃষ্টিতে C ড্রাইভে রয়েছে মনে হলেও সেগুলো থাকবে আপনার অন্য কোন ড্রাইভে।

ডাউনলোড ম্যানেজারের ফাইলগুলো অ্যারেঞ্জ করতে চাইলে

সাধারনত ডাউনলোড ম্যানেজারের জন্য ডাউনলোড ফোল্ডারে কম্প্রেসড, ডকুমেন্ট, অডিও, প্রোগ্রাম, এবং ভিডিও ফোল্ডারগুলো থাকে। ডাটা ডাউনলোড হওয়ার পরে সেগুলোকে নিশ্চয় তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ড্রাইভে ট্রান্সফার করে দেন। এটা আমার কাছে একটা অতিরিক্ত পরিশ্রম মনে হয়।এক্ষেত্রে কম্প্রেসড, ডকুমেন্ট, অডিও, প্রোগ্রাম, এবং ভিডিও ফাইলগুলোর জন্য আপনার বরাদ্দকৃত ড্রাইভগুলোতে একটি করে ফোল্ডার তৈরী করে সেটার হার্ড সিম্বোলিক লিংক তৈরী করে ডাউনলোড ফোল্ডারে ড্রপ করুন। এখন ফাইল ডাউনলোড হওয়ামাত্র উক্ত নির্দিষ্ট ফোল্ডারে (অন্য ড্রাইভে) চলে যাবে।

কম্পিউটারের দরকারী ফাইলগুলোকে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে অ্যাক্সেস করতে চাইলে

আমি ব্যক্তিগত ভাবে কম্পিউটারের ড্রাইভগুলোকে সেখানে বিদ্যমান ফাইল টাইপ অনুসারে নামকরন করে থাকে। মুভি ফোল্ডারে মুভি, সফটওয়্যার ফোল্ডারে সফটওয়্যার কিংবা একাডেমিক ফোল্ডারে পড়াশোনা সম্পর্কিত ফাইল। স্বাভাবিক ভাবেই মুভির ফোল্ডার সব সময় কানায় কানায় পূর্ণ থাকে এবং একাডেমিক ফোল্ডার গড়ের মাঠের মতো খাঁ খাঁ করে। এখন কোন বন্ধুর কাছ থেকে একগাদা নতুন মুভি নিয়ে আসলে সমস্যায় পড়তে হয়। কারন সেগুলো রাখার জন্য মুভি ড্রাইভে পর্যাপ্ত জায়গা নাই। আমি অন্য ড্রাইভ এ রাখতেও নারাজ, কারন আমি এক জায়গায় থেকে সব মুভিগুলোকে দেখতে চাই।এক্ষেত্রে সমাধান হলো একাডেমিক ফোল্ডার যেহেতু খালি আছে সেহেতু সেখানে নতুন মুভিগুলোকে স্থানান্তরিত করে সেগুলোর সিম্বোলিক লিংক তৈরী করে মুভি ফোল্ডারে ড্রপ করা। তারফলে আপাত দৃষ্টিতে সবগুলো মুভি একসাথে থাকছে দেখা গেলেও নতুন মুভিগুলো অন্য জায়গাতে থাকবে। আপনার জায়গা নিয়ে কোন চিন্তাই করতে হবে না।

ইনস্টল করা বড় প্রোগ্রামগুলোকে অন্য ড্রাইভে স্থানান্তর করতে

আবার মনে করুন আপনি একটা বিশাল আকারের গেইম সেটাপ দিলেন যেটা আপনার সি (C-Drive) ড্রাইভে অনেক বেশি জায়গা নিয়ে নিলো। এর ফলে আপনার স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন হচ্ছে। এমন অবস্থায় আপনি কি করবেন?এমন অবস্থায় আপনাকে সিম্বোলিক লিংক ব্যবহার করতে হবে। এজন্য প্রথমে সব প্রোগ্রামকে বন্ধ করে দিন। তারপর উক্ত প্রোগ্রামের সব ফাইলগুলোকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করুন। তারপর স্থানান্তরিত ফাইলগুলোর সিম্বোলিক লিংক তৈরী করে যে জায়গায় ফাইলগুলোকে থাকার কথা ছিলো সেখানে ড্রপ করে দিন।

এছাড়াও যখন সিম্বোলিক লিংক প্রয়োজন

ড্রপবক্সের সাহায্যে যেকোন ফোল্ডারকে সিনক্রোনাইজ করার জন্য আপনি সিম্বোলিংক লিংক ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার জায়গার অপচয় কম হবে।যেকোন প্রোগ্রামের অরিজিনাল সেটিং ফোল্ডারকে অন্যকোথায় সরিয়ে তার জায়গায় সিম্বোলিক লিংক ব্যবহার করতে পারবেন।আপনি যেকোন মিডিয়া ফাইলকে কম্পিউটারের যেকোন জায়গায় রেখে সেটাকে ডিফল্ট মিউজিক লাইব্রেরীতে দেখাতে পারবেন।কোন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলকে কম্পিউটারের যেকোন জায়গায় রেখে তার সিম্বোলিক লিংক থেকে যেকোন জায়গা থেকে ব্যবহার করতে পারবেন।

কীভাবে সিম্বোলিক লিংক ব্যবহার করতে হয়?

কম্পিউটারের কমান্ড সিস্টেম ব্যবহার করে আপনি সিম্বোলিংক লিংক তৈরী করতে পারবেন। কিন্তু সেটা খুব সহজ কোন বিষয় নয়। অনেকটা ঝামেলা হয় এই কাজটি করতে গিয়ে। তবে ঝামেলা এড়িয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছে দেওয়ায় আমার প্রধান কাজ। সহজ পদ্ধতি থাকতে আমরা কখনোই কঠিনের দিকে যাবো না। তবে এই সহজ পদ্ধতির জন্য আপনাদের কম্পিউটারে দুটো জিনিস থাকতে হবে। প্রথমটা Visual Studio 2005 Redistributable এবং দ্বিতীয়টা Link Shell Extension। নিচের ডাউনলোড লিংকে ক্লিক করে আপনার কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম এবং তাদের বিট অনুযায়ী Visual Studio 2005 Redistributable এবং Link Shell Extension ডাউনলোড করে নিন।

সিম্বোলিক লিংক তৈরী করার জন্য প্রয়োজনীয় ফাইল ডাউনলোডWindows XP, 7, 8, 10 (x86)Visual Studio 2005 Red(2.6MB)Link Shell Extension(3.57MB)Windows XP, 7, 8, 10 (x64)Visual Studio 2005 Red(3.0MB)Link Shell Extension(3.83MB)এবার ধারাবাহিকতা মেনে আপনার কম্পিউটারে Visual Studio 2005 Redistributable এবং Link Shell Extension ইনস্টল করুন। ইনস্টল শেষে কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন। আপনার সিম্বোলিংক তৈরী, ব্যবহারের জন্য নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন।যে ফোল্ডারের সিম্বোলিক লিংক তৈরী করবেন সেই ফোল্ডারের উপর মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে নিচের চিত্রে মতো Pick Link Sourceঅপশনটিতে ক্লিক করুন।



এবার যেখানে সিম্বোলিক লিংক তৈরী করতে চান সেখানে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করুন এবং নিচের চিত্রের মতো করে Drop As অপশন থেকে সাবমেনুগুলোর যেকোন একটি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সিলেক্ট করুন। তবে এর আগে উল্লেখিত সফট এবং হার্ড লিংক এর বিষয়টি মনে রাখবেন।



আমি ডেস্কটপে একটি নতুন ফোল্ডারে সিম্বোলিক লিংক তৈরী করেছিলাম। নিচের চিত্রে লক্ষ্য করুন ফাইলগুলোর অরিজিনাল লোকেশনের পরিবর্তে নতুন সিম্বোলিক লিংকের লোকেশন দেখাচ্ছে। এভাবেই আপনারা কাজ করতে পারবেন।



সিম্বোলিক লিংক তৈরীতে লক্ষনীয় বিষয়

সিম্বোলিক লিংক তৈরী করার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা এবং কিছু সতর্কতা রয়েছে। আমি না বললেও আপনারা কখনো এগুলোর কারনে সমস্যায় পড়বেন না। তবুও টিউন থেকে যাতে পূর্নাঙ্গ জ্ঞান আহরন করতে পারেন এজন্য নিচের পয়েন্টগুলো এক নজরে দেখে নিন।

Hardlinks শুধুমাত্র সমর্থিত প্ল্যাটফর্মের অধীনে এবং NTFS ভলিউমে করা যায়।Hardlinks শুধুমাত্র একটি NTFS ভলিউম এর মধ্যে তৈরি করা যেতে পারে। একই বিষয়ে একাধিক NTFS ভলিউম জুড়ে তৈরী করা যাবে না।NTFS ভলিউম এর সাথে NT4 থাকলে Junctions তৈরি করা যাবে না.একটা সিম্বোলিক লিংকের মাঝে অন্য একটি সিম্বোলিক লিংক তৈরী করা যাবেনা। কারন এর ফলে সিস্টেমে এমন একটা লুপ তৈরী হয় যে সেটা থেকে আর বের হয়ে আসা যাবে না। ফলে সিস্টেম ক্র্যাশ করা থেকে শুরু করে যেকোন কিছু হতে পারে।

তবে যাই হোক, সিম্বোলিক লিংক এর ব্যবহার পদ্ধতি খুব সহজ এবং বাস্তব জীবনে খুব প্রয়োজনীয়। কারন একটা পিসি যদি একাধিক মানুষ ব্যবহার করে তাহলে দেখা যায় একই কন্টেন্ট একাধিক ব্যক্তির ফোল্ডারে থাকে। ফলে জায়গার ব্যাপক অপচয় হয়। এক্ষেত্রে সিম্বোলিক লিংক ব্যবহার করে এই সমস্যা মিটিয়ে ফেলা যেতে পারে। সিম্বোলিক লিংক সম্পর্কে আমি সামান্য কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করলাম। যাদের মন এতে তৃপ্ত হতে পারেনি তারা এখানে ক্লিক করেসিম্বোলিক লিংক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন।


কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ। Conversion Conversion Emoticon Emoticon