কিভাবে সহজ পদ্ধতিতে পিডিএফ তৈরি করবেন? সহজ PDF Creating টিউটোরিয়াল

হাই কোয়ালিটি পিডিএফ বানাতে আপনার যে দুটা জিনিস লাগবেই তা হচ্ছে ডেস্কটপ/ল্যাপটপ+স্ক্যানার।

তবে অ্যান্ড্রয়েডে "ক্যামস্ক্যানার" সফটওয়্যার দিয়েও পিডিএফ বানানো সম্ভব কিন্তু সেক্ষেত্রে কোয়ালিটি যা হবে, সাজেশন থাকবে এই কাজ করে সময় নষ্ট না করার।

এবার আসি সফটওয়্যার এ। পিডিএফ বানাতে মোস্ট জরুরি সফটওয়্যার এর তালিকা দিচ্ছিঃ

* অ্যাডোব অ্যাক্রোবেট (পিডিএফ পেজগুলা মার্জ করতে+ইমেজের ফরম্যাট চেঞ্জ করতে+ইমেজ থেকে পিডিএফ/পিডিএফ থেকে ইমেজে কনভার্ট করতে লাগবে এটা। সব ভার্সনেই কাজ চলে তবে চেষ্টা করবেন লেটেস্টটা ইউজ করতে। আপডেটে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। )

* স্ক্যান টেইলর (স্ক্যানকৃত ইমেজ ফাইলকে ঘষেমেজে ঝকঝকে করার জন্য।)

* অ্যাডব ফটোশপ (কভারকে দৃস্টিনন্দন করার জন্য।)

বিগিনার দের জন্য এইগুলোই যথেস্ট। তাছাড়া আরো কিছু অপশনাল সফটওয়্যার আছে। যেমন "পিডিএফ ফিল", "ফক্সিট রিডার" ইত্যাদি।
আর যারা আমার মতো ফটোশপে দুর্বল তারা "ফটোস্কেপ", "ফটো ইন্সট্রুমেন্ট", "ফটো স্টুডিও" ইউজ করতে পারেন কভার এর কাজে।
আর স্ক্যান করার জন্য স্ক্যানার এর ড্রাইভার সফটওয়্যার তো লাগবেই।

যাই হোক, এবার কাজের ধারা সম্পর্কে শর্টকাট একটু ধারনা দেই।
স্ক্যানার এর সাথেই কিভাবে স্ক্যান করতে হবে তার টিউটোরিয়াল দেয়া থাকে। সেটা ফলো করবেন।

প্রথমেই স্ক্যানার দিয়ে বই এর পেজগুলা একটা একটা করে স্ক্যান করে নিবেন। বই এর পেজের সাইজ ছোট হলে একসাথে দুই পেজ করে স্ক্যান করা সম্ভব। যেমন সেবার পেপারব্যাক বইগুলো। হার্ডকভার জেনুইন সাইজ এর বইগুলোও দুই পেজ করে করা যায়। কিন্তু আরেকটু বড় সাইজের ক্ষেত্রে একেকবারে এক পেইজ করে স্ক্যান দেয়া লাগবে (যেমন টেক্সটবুক সাইজ এর বইগুলো)।

স্ক্যানের মোড একেক স্ক্যানারভেদে একেক রকম হয়। তবে কালার মোডে ৬০০ ডিপিআই তে স্ক্যান করলেই ভাল হয়। স্ক্যান হয়ে গেলে সবগুলা ইমেজ "tiff" ফরম্যাটে একটা ফোল্ডারে সেইভ করবেন।
তাহলেই আপনার স্ক্যানারের কাজ শেষ।

এবার ফাইল সেইভ করা ফোল্ডারটা নিয়ে আপনাকে "স্ক্যান টেইলর" সফটওয়্যার এর দ্বারস্থ হতে হবে। স্ক্যান টেইলর এর কাজ নিয়ে আমাদের একটা টিউটোরিয়াল আছে। তাই এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলছি না। টিউটোরিয়ালটা চেক করে নিবেন দয়া করে।



তবে আগে বইএর কভারটা আলাদা করে নিয়ে ফটোশপে প্রয়োজন অনুযায়ী স্মুথ/ডিনয়েজ/কালার অ্যাডজাস্টমেন্ট করে নিয়ে তারপর বাকি পেজগুলোর সাথে সেইম ফোল্ডারে স্ক্যান টেইলরে ঢোকাবেন। নাহলে সাইজ অন্য পেজগুলার সাথে মিলবে না।

তাছাড়া পিডিএফ ফিল সফটওয়্যার দিয়েও সব পেজের সাইজ সমান করা যায়। বিগিনার হিসেবে সে দিকে না যাওয়াও ভাল। টিউটোরিয়াল অনুযায়ী স্ক্যান টেইলরে কাজ শেষ করা হয়ে গেলে দেখবেন আপনার এডিটেড ইমেজগুলো সংশ্লিষ্ট ফোল্ডারের ভিতর "আউটপুট" নামের সাব ফোল্ডারে জমা হবে। তখন আপনার স্ক্যান টেইলর এর কাজও মুটামুটি কমপ্লিট বলা যায়।

এখন আসবে "অ্যাডোব অ্যাক্রোবেট" এর কাজ। সফটওয়্যারটি ওপেন করে "Combine Files Into PDF" অপশন সিলেক্ট করবেন। এরপর আগত পপআপ উইন্ডোর উপরে "Add Folder" অপশনটি সিলেক্ট করে "আউটপুট" ফোল্ডারটি দেখিয়ে দিন। পেজগুলির সিকোয়েন্স ঠিক আছে কিনা চেক করে "Create PDF" ক্লিক মেরে দিন। মার্জিং এর কাজ শেষ হলেই আপনার জিনিস রেডি। পছন্দমত নাম দিয়ে সেইভ করে ফেলুন।

আশা করি বেসিক সিস্টেমটা বুঝাতে পেরেছি। আর কে না জানে, বুদ্ধিমানদের জন্য ইশারাই কাফি।

তবুও কোন সমস্যা থাকলে জানাবেন।


স্ক্যান টেইলরের ডাউন লিংক

অ্যাডব অ্যাক্রোবেট আর ফটোশপ ডাউনলোড করতে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যান।

দ্বিতীয় পদ্ধতি


 হাই কোয়ালিটি পিডিএফ বানাতে আপনার যে দুটা জিনিস লাগবেই তা হচ্ছে ডেস্কটপ/ল্যাপটপ+স্ক্যানার।

যে সফটওয়্যারগুলো লাগবে তা হল- অ্যাডোব অ্যাক্রোব্যাট, স্ক্যান টেইলর, এবং অ্যাডোব ফটোশপ।  

১। প্রথমেই আসে স্ক্যনিং। স্ক্যান করবেন কালার মোডে, ৩০০ ডিপিআই রেজোল্যুশনে, পিডিএফ/ডকুমেন্ট ফরম্যাটে। স্ক্যান করার সময় বইটা স্ক্যানারের গায়ের সাথে ভালো করে চেপে ধরবেন, তবে বেশি চাপ দেবেন না। লক্ষ্য রাখবেন স্ক্যান করার সময় যেন বইটি নড়ে না যায়, তাহলে লাইন আঁকাবাঁকা আসবে। একবারে ১৫-২০ পৃষ্ঠা পিডিএফ/ডকুমেন্ট ফরম্যাটে কালার মোডে স্ক্যান করুন, তারপর আবার পরের ১৫-২০ পৃষ্ঠা স্ক্যান করুন। এভাবে পুরো বই স্ক্যান শেষ করে অ্যাডোব অ্যাক্রোব্যাট দিয়ে পিডিএফ ফাইলগুলি কম্বাইন(জোড়া লাগানো) করে নিন। এরপর, নতুন যে পিডিএফ ফাইলটি হবে সেটি tiff ফরম্যাটের ইমেজ মোডে একটা ফোল্ডারে এক্সপোর্ট করুন। এই গেল আপনার স্ক্যানিং পদ্ধতি।

২। এরপর স্ক্যান টেইলরে নতুন একটা প্রজেক্ট ওপেন করে প্রথমে ওরিয়েন্টেশন ফিক্স করে নিন, মানে বইয়ের পাতার রোটেশন ডান-বাম-উপর-নীচে(আপনার যেদিকে দরকার) ঘুরিয়ে নিন।  

  **Orientation ধাপটি শেষ হবার পর Split Pages ধাপটি অটোতে(Auto) ফেলে রান করে দিন। এতে ডাবল পেইজগুলো সিঙ্গেল পেইজে ভাগ হয়ে যাবে।    

   **তারপর আসবে Deskew। Deskew অটোতে ফেলে রান করে দিন। এতে করে কোন পেইজের লেখা বেঁকে কোণাকুণি হয়ে গেলে সেই পেইজের লেখার লাইনগুলি সোজা হয়ে যাবে।    
 
  **তারপর আসবে Select Content ধাপটি। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ধাপ; বিশেষ করে সেবার পেপারব্যাক বইয়ের জন্য। প্রত্যেকটা পৃষ্ঠার কন্টেন্ট ম্যানুয়ালি সিলেক্ট করুন। শুধু লেখার আশেপাশে বক্স করে কন্টেন্ট সিলেক্ট করুন।    

  **এরপর, আসবে Margins ধাপটি। এই ধাপ একদম সহজ। Margins যা দেওয়া আছে তাই থাকলে সমস্যা নেই। Alignment-এ মাঝের বক্সে টিক দিয়ে Apply To... All Pages দিয়ে দিন। এরপর পরের ধাপ অর্থাৎ, Output-এ চলে যান। Margins রান না করলেও চলবে।  

   **এবার আসুন সর্বশেষ ধাপ Output-এ। রেজোল্যুশন দিন 600 DPI এবং Mode দিন Black and White.(যেসব পৃষ্ঠায় ছবি আছে পুরো আউটপুট প্রসেস শেষ হয়ে গেলে সেসব পৃষ্ঠার Output দিন Mix মোডে)।  বইয়ের লেখা কিছু মোটা হলে Thinner-এ ক্লিক করে প্রয়োজনমত লেখা হাল্কা করে নিতে পারেন(যেমন ধরুন -15), অথবা লেখা কিছুটা গাঢ় হলে Thicker-এ ক্লিক করে নিন(যেমন ধরুন +10)। এরপর রান করে দিন।

**আউটপুট হয়ে গেলে সেবার বইয়ে (বেশির সেবার মত পেপারব্যাক বইয়ে) ব্ল্যাক স্পট দূর করার জন্য ফিল জোন ব্যবহার করুন। Output অপশনে Fill Zone অপ্সহনে ক্লিক করলে মাউসের সাহায্যে প্রথমে এক জায়গায় ক্লিক করুন, তারপর আরও দুই বা ততোধিক জায়গায় ক্লিক করে একটা ত্রিভুজ/চতুর্ভুজ/বক্স তৈরি করলে সেই বক্সের সব দাগ মুছে যাবে। এভাবে সব ব্ল্যাক স্পটের চারপাশে বক্স বানিয়ে দাগগুলো মুছে দিন। সবগুলো পেইজের ফিল জোনের কাজ শেষ হলে একদম প্রথম পৃষ্ঠায় গিয়ে আবার আউটপুট রান করে দিন। ব্যস আপনি পেয়ে যাবেন স্ক্যান টেইলরের সাহায্যে আউটপুট। এই হলো স্ক্যান টেইলরে কাজ করার মোটামুটি একটা পদ্ধতি। কাজ করতে করতে আপনি নিজেই এক সময় বুঝে যাবেন আরও খুঁটিনাটি।

৩। আউটপুট হয়ে গেলে অ্যাডোব অ্যাক্রোব্যাটে tiff ইমেজগুলো একটি সিঙ্গেল পিডিএফ ফাইলে কম্বাইন করে নিন। ব্যস, আপনার পিডিএফ তৈরি।

 এরপরও স্ক্যান টেইলর নিয়ে প্রব্লেম থাকলে অনিক ভাইয়ের করা ভিডিও টিউটোরিয়ালটা নামিয়ে দেখতে পারেন এখান থেকে

 স্ক্যান-এডিটের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সফটওয়্যার এখান থেকে নামিয়ে নিতে পারেন-

১। অ্যাডোব অ্যাক্রোব্যাট পোর্টেবল ডাউনলোড লিংক

২। স্ক্যান টেইলর ডাউনলোড লিংক (এখানে স্ক্যান-টেইলরের একটা ভিডিও টিউটোরিয়ালও আছে।)


ডাউনলোড করতে সমস্যা হলে বা ডাউনলোড করতে না পারলে এখানে দেখুন কিভাবে ডাউনলোড করতে হয়?

কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ। Conversion Conversion Emoticon Emoticon